Skip to Content

দ্বীন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র অগ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি দিক

February 4, 2026 by
Mahdi Hasan
| 1 Comment

Tap to Share


দ্বীন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র অগ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি দিক

 ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসি সিস্টেম যথাযথ কিনা—এ নিয়ে গুণীজনদের মধ্যে বহু মতামত ও মতভেদ রয়েছে। একটি বিষয়কে সাব্যস্ত করার মানে সর্বদাই এমন নয় যে এর বিপরীত বিষয়টি ভুল। গণতন্ত্রকে অনুপযুক্ত ও ভুল প্রক্রিয়া দাবি করা মানেই বিপরীত মতাদর্শ লালনকারীদের প্রতি সরাসরি আঙুল তোলা নয়। তবে নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে, আল্লাহর ইচ্ছায় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অকার্যকারিতা নিয়ে অনেক একাডেমিক আলোচনা রয়েছে। সহজভাবে বোঝার একটি বিষয় হলো—এটি নির্ধারিত গণ্ডির বাইরে গিয়ে এক প্রকার ঔদ্ধত্য প্রদর্শনের শামিল, যা খানিক বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।

 “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম।” (সূরা মায়িদা: ৫:৩)

 চৌদ্দশত বছর আগে আল্লাহ তা‘আলা রাসূল ﷺ–এর মাধ্যমে একে একে সর্বত্র প্রযোজ্য বিধানসমূহ প্রদান করে দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেন। বিদায় হজ্বে রাসূল ﷺ–এর জবানিতে দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়ার ঘোষণা জারি হয়। অর্থাৎ দ্বীনী ও দুনিয়াবী সব সমস্যার সমাধান আল্লাহ তা‘আলা কুরআন, সুন্নাহ, সীরাত এবং সাহাবায়ে কিরামের জীবনীতে সংরক্ষণ করেছেন। এই আদর্শ জীবনব্যবস্থা যুগে যুগে সফল খলিফাদের মাধ্যমে বাস্তবায়িতও হয়েছে। 

“আল্লাহর চাইতে অধিক সত্য কথা আর কার হবে?” (সূরা নিসা: ৪:৮৭) 

আল্লাহ তা‘আলা যখন বলেছেন যে দ্বীন পরিপূর্ণ, তখন পরিপূর্ণই—এর বাইরে কিছু বলার অবকাশ নেই। একজন ঈমানদারের জন্য এর বেশি আর কোনো প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একজন মুমিন বিশ্বাস করতে বাধ্য যে আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাই যথেষ্ট; বরং সেটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। 

এ কথা মনে রাখতে হবে যে রাসূল ﷺ তাঁর দীর্ঘ তেইশ বছরের নবুয়তি জীবনে এমন এক বিপ্লব সাধন করেছেন, যার দৃষ্টান্ত পুরো মানবসভ্যতা দিতে ব্যর্থ। এই বিপ্লবের প্রতিটি ধাপই ছিল আল্লাহর সাহায্য ও ঐশী দিকনির্দেশনার ফল। রাসূল ﷺ একটি অবাধ্যতায় নিমগ্ন জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। সভ্যতা যখন সংকটে নিপতিত, তখন তিনি ছিলেন আলোর মশালধারী শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। একে একে শত-সহস্র, এমনকি লক্ষাধিক মানুষ প্রাণসঞ্জীবনী সুধা পান করে ধন্য হয়েছে এবং নিজেদেরকে শরীয়াহ কর্তৃক বিধিত ব্যবস্থার সর্বোৎকৃষ্ট নজির হিসেবে গড়ে তুলেছে।

 আল্লাহ পূর্ণতার ঘোষণা দিলেন, রাসূল ﷺ–এর মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হলো, আর আমাদেরকে রাসূলের উত্তম আদর্শ ও খুলাফায়ে রাশেদার পথ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হলো। কিন্তু— 

এত কিছুর পরও যদি কেউ মানবরচিত তন্ত্রের অধীনে দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, অথবা গণতন্ত্রকে শরীয়াহভিত্তিক শাসনের চেয়ে উত্তম মনে করে, তবে কি পরোক্ষভাবে আল্লাহ প্রদত্ত পদ্ধতির প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা হচ্ছে না? 

এতে কি এই কথাই প্রমাণিত হচ্ছে না যে আল্লাহ যা দিয়েছেন তা যথেষ্ট নয়—এই ধারণা থেকেই ভিন্ন পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে? উত্তর খুঁজুন। আর কতদিন নিজের বিবেক ও সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে পালিয়ে বেড়াবেন?

Sign in to leave a comment